সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মানুষ আরও অনেক বেশি সহানুভূতিশীল আর দয়ালু হোক: মারিয়া-শেহ্ওয়ার

ফেসবুক ও ইউটিউবে যারা নিয়মিত ভিডিও দেখেন তাদের মারিয়া ও শেহ্ওয়ার হোসেইন সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। তাদের স্বল্প মিনিটের অল্প অল্প ভিডিওগুলো সামাজিক মাধ্যমে কতটা জনপ্রিয় তা ‘শেহ্ওয়ার অ্যান্ড মারিয়া’ নামে ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে একটু ঢুঁ দিলেই বোঝা যায়। প্রতিনিয়ত তাদের ভিডিও দেখছেন দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ।

গত বছরে ঢাকায় বিয়ে হয় বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা শেহওয়ার হোসাইন ও রোমানিয়ার নাগরিক মারিয়ার। বর্তমানে বাস করছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। সম্প্রতি এই দম্পতির সঙ্গে কথা হয়েছে বাংলাদেশ প্রেসের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শ্যামল রায়।

আগামী ১০ বছর পর নিজেদের কোথায় দেখতে চান?

শেহ্ওয়ার-মারিয়া: আল্লাহ যদি ততদিন আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন, তাহলে আমরা চাইব এমন একটা পৃথিবীতে বসবাস করতে যেখানে মানুষরা একে অপরের প্রতি আরও অনেক বেশি সহানুভূতিশীল আর দয়ালু হবে। আমাদের ভিডিওগুলোর মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি এই বার্তাগুলো দেওয়ার। সেই ক্ষেত্রে যদি আমরা ছোট্ট কোন অবদানও রাখতে পারি তাহলে সেটাই হবে আমাদের পরম পাওয়া।


আপনাদের ভিডিওগুলো এত জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কোন রহস্য?

শেহ্ওয়ার-মারিয়া: সত্যি কথা কি, আসলে আমরা নিজেরাও জানিনা কি কারণে আমরা এতো ভালোবাসা পেয়েছি কিন্তু আমরা সবার কাছে গভীরভাবে বাধিত। এই ভালবাসার ঋণ আমরা কোনদিন শোধ করতে পারবো না। হয়তো আমরা দুইজন সাধারণ মানুষ অকৃত্রিমভাবে নিজেদেরকে সবার সামনে প্রকাশ করছি দেখেই হয়তো আমাদেরকে সবার এতটা ভালো লেগেছে। আর মারিয়ার বাংলা ভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা হয়তো সবাইকে নাড়া দিয়েছে।


ভক্ত/ ফলোয়ারদের কাছে কী এখন কোন দায়বদ্ধ মনে হয়? কেননা আপনাদের ভিডিওয়ের জন্য অধীর অপেক্ষায় তারা থাকেন।

শেহ্ওয়ার-মারিয়া: আমাদের ভক্ত, আমাদের ফলোয়ার আমাদের কাছে এখন নিজের পরিবারের মতো এবং পরিবারের কাছে দায়বদ্ধতা তো অবশ্যই থাকবে। এই কারণেই আমরা দুইজনই ফুলটাইম চাকরি করা সত্ত্বেও আমাদের এই পরিবারের কথা চিন্তা করে নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে যাচ্ছি। আমরা জানি যে সবাইকে নিয়েই আমাদের এই পরিবার। পাঁচ বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষজনও দেখেন। তাই আমরা অবশ্যই সব সময় এমন ভিডিও বানাবো যা সবাই পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে দেখতে পারেন।


শুধু কী বাংলাদেশিরাই আপনাদের ভিডিও পছন্দ করেন না বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষাভাষীরাও?

শেহ্ওয়ার-মারিয়া: আমাদের বাংলাতে ভিডিও বানানোর অন্যতম মূল কারণ ছিল যাতে আমাদের বাংলাদেশের মানুষ ভিডিওগুলো উপভোগ করতে পারে। কিন্তু আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে পৃথিবীর সব প্রান্তের বাঙালিরা আমাদের ভিডিও পছন্দ করেন। আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত থেকে শুরু করে পৃথিবীর যেই প্রান্তেই বাংলা ভাষা বলা হয় মোটামুটি সব জায়গা থেকেই আমাদের কাছে ভালোবাসার বার্তাগুলো আসে।

পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে কলকাতা, আসাম সেখানে আমাদের প্রচুর শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে এবং এর জন্য আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। তাছাড়া আমাদের যুক্তরাজ্যে বিশাল একটা বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি জনসংখ্যা রয়েছে এবং তাদের ভালোবাসা পেয়ে আমরা সত্যিই খুবই কৃতজ্ঞ।


আসছে ঈদ নিয়ে পরিকল্পনা?

শেহ্ওয়ার-মারিয়া: আমাদের এখানে কিন্তু এখনও লকডাউন চলছে তাই ঈদ নিয়ে এইবার খুব বেশি উৎসাহিত হতে পারছি না। তার উপর দেশে যেহেতু আমাদের প্রচুর আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব আছে, এজন্য এই মহামারীর কারণে কিছুটা দুশ্চিন্তাতেই দিন কাটছে। আমাদের মনে প্রাণে এই দোয়াই থাকবে যেন ঈদ নাগাদ মহামারীর প্রকোপ কমে যায় তাহলে হয়তো সীমিত পরিসরে আমরা পরিবারের সাথে ঈদের দিনটা কাটাবো, হয়তো আমাদের দর্শকদের সাথে দিনটার কিছু অংশ শেয়ার করব।


আপনাদের সম্পর্কে ভক্তরা জানেন না এমন পাঁচটি তথ্য?

শেহ্ওয়ার-মারিয়া:  খালি চোখে বোঝা না গেলেও মারিয়ার চোখের রং কিন্তু নীল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক পুরনো আর দুর্লভ ভিডিওগুলোর অধিকারী শেহওয়ার। মারিয়া কিন্তু শেহওয়ারকে আগে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই মারিয়ার ইচ্ছা ছিল একজন মনোবিজ্ঞানী হওয়ার। ছোটবেলা থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত জীবনের প্রতিটা দিন মারিয়ার আলুর চিপস না খেলে হতোই না।


 

শেহ্ওয়ার-মারিয়া।

মারিয়াকে প্রশ্ন, স্বামী হিসেবে নয় একজন বাংলাদেশি হিসেবে শেহওয়ার কেমন মানুষ ?

একজন বাংলাদেশি মানুষের যেসব গুণাবলী সম্পর্কে আমার এখন ধারণা হয়েছে, তার সবগুলোই শেহওয়ার-এর মধ্যে আছে। সে খুবই দায়িত্বশীল, দয়ালু, শ্রদ্ধাশীল আর সবচেয়ে ভালো লাগে যে জিনিসটা সেটা হল পরিবার তার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে পরিবারই সবকিছু। তাই আমি শেহওয়ার-এর পরিবার হিসেবে নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করি।

 


বাংলাদেশ নিয়ে আপনাদের ভাবনা ?

শেহ্ওয়ার-মারিয়া: আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা সুন্দর সুন্দর ভিডিও বানাবো আর সারা পৃথিবীর মানুষ সেটা দেখবে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর একটা দেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে কিন্তু পশ্চিমা দেশের মানুষগুলোর কাছে সেটা কিন্তু এখনো অজানা। ভারত-মালদ্বীপ শ্রীলংকা এইসব দেশগুলো যদি পশ্চিমা দেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে তাহলে বাংলাদেশে কেন পারবে না? আমাদের চেষ্টা থাকবে এই সৌন্দর্য গুলো আমাদের ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরা।


ভক্তদের জন্য কোন বার্তা?

শেহ্ওয়ার-মারিয়া: আপনাদের ভালোবাসা আমাদেরকে খুবই অনুপ্রাণিত করে। বুকের অন্তস্থল থেকে আপনাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা। দোয়া করবেন যেন এভাবেই আমরা আপনাদের সাথে সব সময় থাকতে পারি এবং আপনাদেরকে এভাবেই আনন্দ দিয়ে যেতে পারি।


 

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ খবর

আরও খবর

চাকরি নয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর পেশাকেই ভোট দিবেন শামস

শামস আফরোজ চৌধুরী, তবে ‘থটস অব শামস’ নামে সামাজিক মাধ্যমে অতি পরিচিত মুখ। যার তৈরি ভিডিও কনটেন্টে লাখ লাখ ভিউ, শেয়ার হাজারে হাজারে। শামসের...

মায়ের কথায় চাকরি ছেড়ে যেভাবে ‘সাফল্যের চূড়ায়’ শামস

মায়ের কথামত চাকরি ছেড়ে একসময় হতাশায় ভুগছিলেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিলেন চরম দুশ্চিন্তায়! তবে মায়ের করা ভবিষ্যৎবাণী বিফলে যায়নি। কথা হচ্ছিল শামস আফরোজ চৌধুরীকে নিয়ে,...