সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১

হাসপাতালের জানালা দিয়ে ডাকলেন করোনায় ‘মৃত’ রোগী!

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন বলে পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়। হাতে তুলে দেওয়া হয় ডেথ সার্টিফিকেটও। কিন্তু এরপর যা ঘটে তাতে তাজ্জব বনে যান ঐ পরিবারের লোকজন।

ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের বাসিন্দা, সাবির মোল্লা (৫০) নামে এক রোগীর করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাতে হাতে ডেথ সার্টিফিকেটও তুলে দেওয়া হয়।

কিন্তু শুক্রবার সকালে ‘মৃত’ সেই রোগীই ওয়ার্ডের জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে পরিবারের এক সদস্যকে ডাকেন। এর পরেই হাসপাতাল চত্বরে বেধে যায় হুলস্থুল।

পরিবারের অভিযোগ, খাতায়-কলমে সাবিরের মৃত্যু হলেও তিনি যে বেঁচে আছেন, সেটা প্রথমে মানতেই চাননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর পরেই বেনিয়াপুকুর থানার দ্বারস্থ হন সাবিরের পরিজনেরা। পুলিশের হস্তক্ষেপে সমস্যা মেটে। ডেথ সার্টিফিকেট ফেরত দিয়ে হাসপাতালের বন্ডে সই করে সাবিরকে বাড়ি নিয়ে যান তার স্ত্রী ও ছেলে।

শুক্রবার হাসপাতালের এক কর্তা বলেন, একটা সমস্যা হয়েছিল। সেটা মিটে গিয়েছে। রোগীর আত্মীয়দের আর কোনও অভিযোগ নেই।

ক্যানিংয়ের কুমারশা মাঝেরপাড়ার বাসিন্দা সাবির গত শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

রবিবার রোগীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হয়েছিল। তার পরে আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

রোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায় , গত বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানান, সাবির করোনা আক্রান্ত। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ত্রী মাবিয়া মোল্লার সাথে ফোনে কথাও বলেন সাবির।

সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের দ্রুত হাসপাতালে এসে দেখা করতে বলা হয়। অভিযোগ, জরুরি অস্ত্রোপচারের নাম করে তাদেরকে দিয়ে বেশ কয়েক জায়গায় সই করিয়ে নেওয়া হয়।

এর পরে বলা হয়, করোনায় মারা গিয়েছেন রোগী। তাই দেহ পরিবারের হাতে দেওয়া যাবে না। অভিযোগ, রাত ১১টা নাগাদ পরিবারের হাতে সাবিরের ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হয়। তা পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়েরা। বৃহস্পতিবার সারা রাত হাসপাতাল চত্বরে বসেই কেটে যায় তাদের।

পরিবারের দাবি, শুক্রবার সকালে তারা ওয়ার্ডে ঢুকে এক বার সাবিরকে চোখের দেখা দেখতে চেয়ে অনুনয়-বিনয় করলেও বিশেষ লাভ হয়নি।

সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ কোভিড ওয়ার্ডের জানলা দিয়ে সাবির তার এক আত্মীয় দাউদ গাজিকে দেখে হাত নেড়ে ডাকেন। সেই দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান পরিজনেরা।

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ খবর

আরও খবর

‘ধনী’ ভিক্ষুক: মাসে আয় প্রায় ৮৭ হাজার, থাকেন ৮০ লাখের ফ্ল্যাটে!

যারা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করে তারা মাসে কত টাকা রোজগার করতে পারে? ধারণা আছে? সে ধারণা অবশ্য আমাদের বেশির ভাগেরই না থাকাটা একদমই স্বাভাবিক।...

১০ বছরে ২৫ প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন স্ত্রী, তবু অপেক্ষায় স্বামী

ভালোবেসে মানুষ কত কিছুই না করে। কেউ প্রাণ বিসর্জন দেয়, কেউ পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়ে ফেলে, কেউ অপেক্ষা করে বছরের পর বছর। ইতিহাসে এমন...

একজনকেই বিয়ে করতে চান দুই তরুণী, টসে নির্ধারণ হলো কনে

একই সঙ্গে দুই তরুণীর সঙ্গে প্রেম করতেন এক যুবক। অবশ্য এক প্রেমিকা অন্যজনের কথা জানতেন না। কিন্তু ত্রিমুখী এই প্রেমের কথা জানাজানি হওয়ার পর...

৮ বিয়ের পর জানা গেলো নারী এইডসে আক্রান্ত, বিপাকে সাবেক স্বামীরা

বিয়ে করে তিনি সংসার করতেন বড়জোর ১০ থেকে ১৫ দিন। তারপর সুযোগ বুঝে অর্থকড়ি নিয়ে সোজা উধাও হয়ে যেতেন স্ত্রী। এরপর কিছুদিনের বিরতি। আবার...

নগ্ন ছবি তুলে নেটে পোস্ট, মেয়ের কাণ্ডে হার্ট অ্যাটাক মা-বাবার

অনলাইন ক্লাসের জন্য ১৫ বছরের মেয়েকে স্মার্টফোন কিনে দিয়েছিলেন বাবা-মা। কিন্তু সেই ফোন ব্যবহার করে নেটমাধ্যমে নগ্ন ছবি পোস্ট করছিল সেই মেয়ে। মেয়ের এমন...